জুরী বোর্ডের সদস্য (বিনোদন) : শেখ রুনা

ফোরাম প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৮১৯ জন দেখেছেন

টেলিভিশন দর্শক ফোরামের টেলি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ : জুরী বোর্ডের সদস্য (বিনোদন) : শেখ রুনা

শেখ রুনা, প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেত্রী। তিনি ২৯ ফেব্রুয়ারী খুলনা জেলার দাকপ উপজেলার চালনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শেখ রুনা ছোট বেলা হতেই গান, অভিনয় ও আবৃত্তির সাথে জড়িত হন। স্কুলজীবনে আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা, বিতর্ক, অভিনয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করে ১ম স্থান অধিকার করে দক্ষতার সাক্ষর রাখেন। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় স্থানীয় মঞ্চ নাটকের দল “রূপসা” এর সাথে যুক্ত হয়ে সোহরাব রু¯তম, ভোলাসহ বিভিন্ন প্রযোজনায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। চালনা বাজার সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হতে ১৯৯০ এস.এস.সি. পাশের পর উদীচি শিল্পীগোষ্ঠির সাথে যুক্ত হোন। খুলনা সরকারী মহিলা কলেজ, (বয়রা) এ.এইচ.এস.সি.তে পড়াকালীন সময়ে উদীচি শিল্পীগোষ্ঠীর আলোচিত নাটক “এ লাশ কবরে থাকবে না” তে বীরঙ্গনা চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেন। এইচ.এচ.সি. পাশের পর ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকায় গ্রাজুয়েশন এর জন্য ভর্তি হওয়ার পর ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে কাজ করা শুরু করেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে সুকন্যা সেরা সুন্দরী প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে মিডিয়ায় কাজ করা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে বরেণ্য লেখক, নির্মাতা হুমায়ন আহমেদ এর ডকুমেন্টরী “গ্রহণের কাল” এ অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথমে ক্যামেরার সামনে দাড়ান। প্রায় সমসময়েই বরেণ্য নির্মাতা কায়েস চেীধুরীর নির্বাচনকালীন ডকুমেন্টরীতেও কাজ করেন। ১৯৯৭ সালে সৈয়দ সোলায়মান দুলালের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক “প্রজন্ম” তে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকে কাজ করা শুরু করেন।

সৃষ্টিশীল শেখ রুনা এ সময়ে ক্যামেরার পিছনে কাজ করার প্রয়াস খুঁজেন । নিজেকে আবিস্কার করেন পিছনের কুশিলবের সত্ত্বা হিসেবে। পরিচালনা তাকে ভীষণ আকৃষ্ট করে। বরেণ্য চলচিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম ও আরেক বরেণ্য নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকী এর সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালের শেষের দিকে বিটিভির প্যাকেজ সংগীতা অনুষ্ঠান “অঞ্জনা” নির্মানের মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান এবং নিয়মিত সংগীতানুষ্ঠান বানানো এবং বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেন। ২০০১ সালে রবিউল ইসলাম পরিচালিত বিটিভির প্যাকেজ নাটক “ নুপুর” নাটকটি প্রযোজনার মাধ্যমে নাট্য প্রযোজনায় আসেন। তখন থেকে শুরু করে আজ অব্দি নাটক, টেলিফিল্ম প্রযোজনা করে করছেন। উল্লেখিত প্রযোজিত নাটক ও টেলিফিল্ম : ভুল সবি ভুল (ধারাবাহিক), আদালত (ধারাবাহিক) ভালোবাসা কারে কয় (টেলিফিল্ম), নূপুর, মনচোরা, মনের আকাশে, মন ছুঁয়ে যায়, ভালোবাসা ছুঁয়ে যায়, হয়তো তবু ভালোবাসা, স্বপ্নে বসবাস, তোমাকে আর পাইনা, ভালোবাসের আশেপাশে, আমি তুমি ও সেই রাত ইত্যাদি। ২০০২ সালে বিটিভির জন্য এসিড, সন্ত্রাস, অপহরণসহ বিভিন্ন তথ্যভিক্তিক ধারাবাহিক নাটক “আদালত” নির্মাণের মাধ্যমে নাট্যনির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। শেখ রুনা পরিচালিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো:
ধারাবাহিক নাটক : আদালত (বিটিভি), ভুল সবি ভুল (এটিএন বাংলা)। টেলিফিল্ম: মনচোরা (এটিএন বাংলা), ভালোবাসা ছুঁয়ে যায় (এটিএন বাংলা), হয়তো তবুও ভালোবাসা (এটিএন বাংলা), পরি (চ্যানেল আই), মন ছুঁয়ে যায়(এটিএন বাংলা), স্বপ্নে বসবাস(এটিএন বাংলা), তোমাকে আর পাইনা ইত্যাদি। একক নাটক : অপু তুমি কে, রাজবন্দীর চিঠি, ভালোবাসার এপাড় ওপাড়, আমি তুমি এবং সেইরাত, পুনরাবৃত্তি, বাকল, মনের আকাশে, ভালোবাসার আশেপাশে ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি বেশকিছু ডকুমেন্টরী ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। শেখ রুনা বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে সামাজিক নানা কাজে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি পেশাদার নাট্য নির্মাতাদের সংগঠন “ডিরেক্টরস ডিল্ড ” এর কার্যনিবার্হী সদস্য হিসেবে নাট্যনির্মাতাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

এ বছর (২০১৯) টেলিভিশন দর্শক এবং জুরীবোর্ডের বিবেচনায় লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ৩ জন।

ডা. এজাজুল ইসলাম

এজাজুল ইসলাম একজন বাংলাদেশী নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি মূলত একজন ডাক্তার। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমে তার নাটকে আগমন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র শ্রাবণ মেঘের দিন। এর পর তিনি দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), শ্যামল ছায়া (২০০৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তিনি তারকাঁটা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতার পুরস্কারে ভূষিত হন।
এজাজুল ইসলাম ১৯৮৪ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার মেডিসিনে স্নাতকোত্তর পাশ করেন।
এজাজ একজন ডাক্তার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখেন। তিনি সরকার নির্ধারিত ৩০০ টাকা ফিতে রোগী দেখেন। তার ভিজিট ফি কম হওয়ায় তাকে গরীবের ডাক্তার নামে ডাকা হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে এজাজুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।
এজাজুল ইসলাম হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক সবুজ সাথী দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন।[৯] ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করেন। চলচ্চিত্রটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), শ্যামল ছায়া (২০০৪), নয় নাম্বার বিপদ সংকেত (২০০৬) ও আমার আছে জল (২০০৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৫ সালে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত কমেডি ধাঁচের টক ঝাল মিষ্টি ছায়াছবিতে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৬ সালে বাদল খন্দকার পরিচালিত বিদ্রোহী পদ্মায় নায়েব, তৌকির আহমেদ পরিচালিত রূপকথার গল্প-এ রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার, এসএ হক অলিক পরিচালিত হৃদয়ের কথায় দারোয়ান চরিত্রে অভিনয় করেন। পরের বছর জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত স্বামীর সংসার ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। একই বছর মতিন রহমান পরিচালিত রোমান্টিক-কমেডি তোমাকেই খুঁজছি ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে অনন্য মামুন পরিচালিত খোঁজ-দ্য সার্চ (২০১০) এবং আশরাফুর রহমান পরিচালিত তুমি আসবে বলে (২০১২) মুক্তি পায়। ২০১৪ সালে তিনি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত তারকাঁটা, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত এক কাপ চা, নজরুল ইসলাম খান পরিচালিত কঠিন প্রতিশোধ ও ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত কি দারুণ দেখতে ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। তারকাঁটা চলচ্চিত্রে মুসা ভাই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।
২০১৬ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা (তারকাঁটা) (২০১৪) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছন।

লাইফ টাইম অ্যাচিভম্যান্ট অ্যাওয়ার্ড তারকা