মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস, পাল্লা ভারী কার?

ফোরাম প্রতিবেদক / ৬৮ জন দেখেছেন
আপডেট : ডিসেম্বর ৭, ২০২২
আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস, পাল্লা ভারী কার?
দর্শক ফোরামের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন

৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে কাতারে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে পা রাখে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারে সেই মিশনে বড় ধাক্কা খায় আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা তিন জয়ে তারা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। যেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। এবারই কিন্তু প্রথম নয় যে বিশ্বকাপ মঞ্চে দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে এর আগেও এ দু’দল মুখোমুখি হয়েছে।

আগামী শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস।

১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রথম সাক্ষাত হয় দেশ দুটির। যেখানে আর্জেন্টিনাকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে নেদারল্যান্ডস। একই বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় ডাচ ও আর্জেন্টিনা। সেটি আবার বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবার। সেখানেও আলবিসেলেস্তেদের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডাচরা।

মাঝে এরপর ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে পুনরায় দেখা হয়। তবে এবার আর পেরে উঠেনি ডাচরা। ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখা হয় তাদের, তাও সেটি ফাইনালে। যেখানে মারিও ক্যাম্পাসের জোড়া গোল ও ড্যানিয়েল বার্তোনির গোলে ৩-১ এ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। পরের বছর চতুর্থবারের মতো তাদের দেখা হয় ফিফা সেলিব্রেশন কাপে। যেখানে উভয় দলই মূল সময়ে গোল করতে ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত মিনিটে খেলা গড়ালেও সেখানে গোলশূন্য সমতা বিরাজ করায় খেলা গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। যেখানে আর্জেন্টিনা ৮-৭ গোলে জয়লাভ করে।

এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফের মুখোমুখি হয় দুই দেশ। সেবার অবশ্য ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস। ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ হয় তাদের মধ্যে। প্রথমটি ১-১ ফলাফল হয়। পরেরটি ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে ডাচরা।

২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে পুনরায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দেখা হয় দু’দলের। যেখানে গোলশূন্য ড্র হয় ম্যাচটি। ২০১৪ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে শেষ মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস। ১২০ মিনিট ম্যাচ ড্র থাকায় পেনাল্টি শুটআউট হয়। তাতে রোমেরোর কল্যাণে ৪-২ গোলে জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে গিয়েছিল তারা।

সব মিলিয়ে ৯টি ম্যাচে ডাচরা জয় পায় ৪টি ম্যাচে। অমীমাংসিতভাবে শেষ হয় ২টি ম্যাচ। আর্জেন্টিনার কাছে হারতে হয় ৩ বার। তবে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে দুই দেশই সমান। ৫টির মধ্যে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২টি, হেরেছে ২টি আর ড্র একটি। ডাচরাও তাই ২টি জয়, ২টি হার ও একটি ড্র।

এদিকে কাতার বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটিও ম্যাচ হারেনি নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ স্টেজের প্রথম ম্যাচ সেনেগালের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচ ইউকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র এবং তৃতীয় ম্যাচ কাতারের সঙ্গে ২-০ গোলে জয় অর্জন করে লুইস ভ্যান গালের ছেলেরা। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রমাণ দিয়েছে খেতাব জয়ের লড়াইয়ে তারা কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের কাতার যাত্রা শুরু করে ২-১ গোলে সৌদি আরবের কাছে হেরে। এরপর মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলের একই ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। শেষ ষোলোর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার নিশ্চিত করে মেসিরা। চলতি আসরে মেসিদের আক্রমণভাগ যত ভালো রক্ষণ ঠিত তার উল্টোটা। সেই ত্রুটি কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সমাধান না করতে পারলে ডাচদের বিরুদ্ধে জেতাটা সহজ হবে না।

উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) লুসাইল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ১০ম বারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ড। এটি হবে বিশ্বকাপ মঞ্চে ৬ষ্ঠ দেখা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

এ বিভাগের আরো খবর

২১ জুন-23 অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান